বিয়ে ভাঙ্গতে ২০০০ টাকা

বিয়ে ভাঙ্গতে ২০০০ টাকা

এক ঘন্টা ধরে রেস্টুরেন্টে বসে আছি।
কিন্তু সরনিকার আসার কোনো নাম নেই।
সরনিকা আমার বান্ধবী।সকালে নামাজ পরে এসে ঘুমাচ্ছিলাম হঠাৎ সরনিকার ফোন,
সরনিকা:হ্যালো,কই তুই?
আমি:সাতার কাটতেছি।
:মাথা ঠিকাছে?
:হুম।
:ফাইজলামি বাদ দে।বিকেলে আমার বাসার সামনের রেস্টুরেন্টে আসিস জরুরী দরকার আছে।
:আসলে আমার কি লাভ?
:তোকে ১০০ টাকা দিবো।
এই কথা বলে ফোন কেটে দিলো।
আমি মনে মনে ভাবলাম ১০০ টাকাই অনেক!এমনিতেই মানিব্যাগে ২ টাকার নোট আছে একটা!
.
১ ঘন্টা পেরিয়ে গেছে এখনো আসার খবর নেই।
অত:পর তিনি আসলেন।
সরনিকা:একটু দেরি হয়ে গেলো।
আমি:কে আপনি?
:অই ফাইজলামি করিস না।
:না আন্টি!ফাইজলামি না।কে আপনি?
:কি বললি???
:না মানে যেই পরিমানে আটা ময়দা দিছস ভাবলাম কোনো আন্টি!
:আরে না!মাত্র ১ ঘন্টা সেজেছি।
বলে কি!!!১ ঘন্টা ও মাত্র!
কিরে কি জন্য আসতে বলছিস?
:আমার জন্য পাত্র খুজতেছে।
:আলহামদুলিল্লাহ।অনেক দিন কোনো দাওয়াত পাই না—–
:অই থাম!তোকে একটা কাজ করতে হবে।
:তোর বিয়ের সমস্ত কাজ আমি ই করবো।
:লাত্থি খাবি!তোকে এই বিয়ে ভাংতে হবে!
:কি???পারুম না।
:সমস্যা নেই।সবাইকে বলে দিবো তুই অহনাকে পছন্দ—–
:এই না না!আমি রাজি।
:জানতাম!এই নে ধর ১০০ টাকা সাথে ৫০ টাকা বেশি দিলাম।রাতে তোকে মেসেজ দিয়ে পুরো প্ল্যান জানিয়ে দেবো।
অত:পর ১৫০ টাকা নিয়ে চলে আসলাম বাসায়!
রাতে ফেসবুকে সমস্ত প্ল্যান জানিয়ে দিলো আমাকে।
কাল থেকেই প্ল্যান কার্যকর করতে হবে।
.
পরের দিন,
এখন যাচ্ছি পাত্রের সাথে দেখা করতে।
সরনিকার থেকে ঠিকানা নিয়ে চলে গেলাম পাত্রের অফিসে।
অফিসে গিয়ে যা দেখলাম তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না!
অফিসে গিয়ে নক করতেই,
আমি:এক্সকিউজমি!আসতে পারি?
পাত্র:হ্যা!আসুন।
ভিতরে ঢুকে দেখি ফয়সাল!আমার ছোট বেলার বন্ধু!
ফয়সাল:তুষার তুই!!!!!
আমি:তুই!!!!
:কতদিন বাদে দেখা!৭ দিন হলো আমেরিকা থেকে এসেছি।
:তাইতো!তোর কোনো পাত্তা ও নেই।
:আমি তো ভাবছিলাম তুই অন্য কোথায় গেছিস।
তা কি মনে করে এই অফিসে?
অত:পর সব খুলে বললাম।
ফয়সাল:(হাসতে হাসতে) এই কথা!১৫০ টাকা দিয়ে বিয়ে ভাংগা!!!
আমি:অই চুপ থাক!এখন আমরা প্ল্যান সাজাবো।
সকল প্ল্যান সম্পূর্ন করে ফয়সালের সাথে আড্ডা দিয়ে চলে আসলাম।
.
বিকেলে সরনিকারে ফোন দিলাম,
আমি:২০০০ টাকা দে।
সরনিকা:আচ্ছা বিকাশ করে দিচ্ছি।কিন্তু যে জন্য গিয়েছিলি সেটা করে এসেছিস?
আমি:সেটা আমার উপর ছেরে দে।
কিছুক্ষন বাদে দেখি বিকাশে ২০০০ টাকা এসেছে।
মনে মনে বললাম তোর ২০০০ টাকাই জলে গেলো!
.
এই দিকে ওদের বিয়ের তারিখ দেয়া হয়ে গেছে।
ফোন বন্ধ করে রেখেছি!বাসায় এসে জানলাম সরনিকা খোজ করতে এসেছিলো।
লাভ নেই!!হাজার খোজলেও ওর সাথে দেখা করা যাবে না।২০০০ টাকার শোকে মারতেও পারে!!!
.
বিয়ের দিন!
আমি ফয়সালের সাথে বরযাত্রী হিসেবে গেলাম।
বিয়ের সময় সরনিকা আমাকে ফয়সালের সাথে দেখে মনে হয় আকাশ থেকে লাফ দিলো!
আমি আর ফয়সাল দুজনেই মুচকি হাসতেছি।
আমি জানি আমারে খবর আছে।যতই হোক ২০০০ টাকা!
.
বিয়ে সমাপ্ত হবার পরে ফয়সাল দের বাড়িতে সবাই চলে আসলাম।
আমি,সরনিকা ফয়সাল বসে আছি।
আমি:শোন,ফয়সাল আমার ছোটবেলার বন্ধু!
সরনিকা:(বিস্ময় ভরা চোখ নিয়ে আমাদের দিকে তাকালো)।
ফয়সাল:ওর কোনো দোষ নেই এটা আমার ই প্ল্যান!
(এখন নতুন বউ তাই কিছু বলছেনা।পরে আমার খবর করে ছারবে) মনে মনে বললাম।
ফয়সাল:আমার তো হয়ে গেলো!!!এবার তোর খবর কি?
হঠাৎ সরনিকা বলে উঠলো,
সরনিকা:তোর অহনার কথা সবাইকে যদি না বলি—–
ফয়সাল:কিরে!!অহনা কে?
আমি:আরে না কেউ না!কল্প চরিত্র আর কি!
চলে আসলাম নিজের বাসায়।হাটতেছি আর ভাবিতেছি ২১৫০ টাকায় কিছুদিন ভালোই চলতে পারবো!

গল্পের বিষয়:
হাস্যরস
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত